ক্যারিয়ার হিসেবে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন

/ / ক্যারিয়ার হিসেবে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন
how t- start blogging as career

আপনি ব্লগিং নিয়ে খুব আগ্রহী কিন্ত কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না? ব্লগিংকে লাভজনক পেশা হিসেবে নিতে হলে আপনাকে ব্লগিংয়ের প্রাথমিক ধারণা ও সঠিকভাবে ব্লগিং শুরু করার ধাপগুলো জানতে হবে।

এখানে আমি ব্লগিং শুরু করার ধাপগুলো আপনার কাছে তুলে ধরব যাতে আপনি সম্পূর্ণ বুঝে শুনে সঠিকভাবে ক্যারিয়ার হিসেবে আপনি ব্লগিং যাত্রা শুরু করতে পারেন।

আপনি হয়তো ব্লগিং সম্পর্কে শুনেছেন যে ব্লগিং করে অনলাইন থেকে আয় করা যায়। আপনি ঠিক শুনেছেন,  ব্লগিং এমন একটি কাজ যার মাধ্যমে ছোটখাট কোন আয় নয় বরং যেকোন চাকরীর চেয়ে ভালভাবে আপনার জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

প্রশ্ন হতে পারে, অন্য পেশাজীবি যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য উচ্চপদস্থ কোন চাকরিজীবি যেমন আয় করে তেমন আয় কি করা সম্ভব? উত্তর অবশ্যই সম্ভব। বরং তার চেয়ে অনেকগুন বেশি আয় করা সম্ভব।

তাহলে এত বেকার কেন? এই প্রশ্ন ও আসবে। এই জন্যই বেকার যে ব্লগিং করে আয় করার যোগ্যতা সবার হয়না। যেমন কেউ চাইলেই, ডাক্তার বা উকিল হতে পারেনা। তেমনি চাইলেই আপনি ব্লগিং হতে আয় করতে পারবেন না। ব্লগ লিখে আয় করতে হলে অবশ্যই আপনার মধ্যে বিশেষ কোন দক্ষতা বা জ্ঞান থাকতেই হবে।

ব্লগিং শুরু করার ধাপসমূহ

কিভাবে আপনি ব্লগিং শুরু করবেন? আপনার মনে যাই আসলো তাই নিয়ে ব্লগিং শুরু করে দিলেই হবেনা। ব্লগিং শুরু করার জন্য আপনার কিছু রিসার্চ বা স্টাডি করতে হবে। একটি ব্লগ তৈরি করার প্রত্যেকটি ধাপ আপনাকে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এটি খুব কঠিন কাজ নয় যেহেতু আমি আপনাকে সব তথ্য ও পরামর্শ দিতে যাচ্ছি। তো আসুন জেনে নেয়া যাক ধাপগুলো কী কী।

1. ব্লগিংয়ের বিষয় / টপিক বা নিশ

কোন বিষয় নিয়ে ব্লগিং করলে বেশি ভিজিটর পাওয়া সম্ভব ও ভাল আয় করা সম্ভব এমন বিষয়গুলো আপনাকে খুজে বের করতে হবে। এটা বের করা খুবই সহজ। গুগলে সার্চ দিয়েই আপনি এমন অসংখ্য ব্লগিং নিশ বা টপিক পেয়ে যাবেন। কিন্তু এগুলো থেকেই আপনার ব্লগিংয়ের বিষয় বাছাই করা মোটেই উচিত নয়।

ব্লগিংয়ের টপিক বাছাই করতে হলে প্রথমেই ৪ টি বিষয় আপনার মাথায় রাখতে হবে। তা হলো,

  • Knowledge
  • Interest
  • High Search and Low Competition
  • Keyword Value

Knowledge

আপনি কোন বিষয়ে ব্লগিং শুরু করলেন, সেই বিষয়ে যদি আপনার পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকে আপনি খুব বেশি হলে ১০/১২ টি পোষ্ট লিখে আর লিখতে পারবেন না। তাই, ব্লগিংয়ের বিষয় ঠিক করার সময় সবার আগে আপনার মাথায় রাখতে হবে এই বিষয়ে আপনার বিশেষ জ্ঞান আছে কিনা।

Interest

এর পর যা খেয়াল করতে হবে তা হলো ঐ বিষয়ে আপনার আগ্রহ বা পছন্দ কেমন। যে জিনিস আপনি মন থেকে পছন্দ করেন না, তা নিয়ে কখনোই আপনি ভাল করতে পারবেন না। যে কোন কিছুতেই আমরা ভাল করতে হলে আমাদের সেই বিষয়ের প্রতি আগ্রহ ও আবেগ থাকতে হবে।

তাই ব্লগিংয়ের নিশ বা টপিক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে খুজে দেখুন কোন বিষয়ের প্রতি আপনার খুব আগ্রহ ও আবেগ রয়েছে।

অন্য যে কোন কাজ থেকে ব্লগিংয়ে অনেক বেশি সময়, মেধা ও শ্রম দিতে হয়। যদি আপনার আগ্রহই না থাকে আপনি কিভাবে সময়, মেধা ও শ্রম দিবেন।

Keyword Value

যদি ব্লগিং করে আপনার আয় করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনি যে টপিক নিয়ে ব্লগিং করতে যাচ্ছেন তার মার্কেট ভ্যালু কতটুকু। যদি কোন বিষয়ের ভ্যালুই না থাকে সেটা নিয়ে ব্লগিং করতে পারেন কিন্তু আপনি ভাল আয় করতে পারবেন না।

খেয়াল করে দেখুন আমার এই ব্লগটি হচ্ছে ২ টি টপিক নিয়ে- 1) Blogging 2) Digital Marketing.

Blogging শব্দটির  সার্চের পরিমান ও ভ্যালু দেখুন

Blogging Value

এখানে খেয়াল করে দেখুন, Blogging শব্দটি প্রতি মাসে প্রায় ২৪৬০০০ বার সার্চ করা হয় এবং গুগলের বিজ্ঞাপনে এই শব্দের প্রতি ক্লিকে ব্যয় (Cost Per Click) ৪.৩৬ ইউএস ডলার।

অর্থাৎ, আপনি যদি গুগল এ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে আয় করতে চান, এই Blogging শব্দটি দিয়ে সার্চ করা কোন ভিজিটরের প্রতিটি এড ক্লিকের জন্য আপনি 4.36 USD এর 68% আয় করতে পারবেন।

তাহলে অনুমান করতে পারছেন, এই টপিক নিয়ে মানুষ কেমন আগ্রহী এবং কেমন আয় করা সম্ভব। তাই, আপনার ব্লগিং নিশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সেই কিওয়ার্ডের সার্চের পরিমাণ ও ভ্যালু যাচাই করুন ।

Digital Marketing শব্দটির  সার্চের পরিমান ও ভ্যালু দেখুন

Digital marketing value

এবার খেয়াল করে দেখুন, Digital Marketing শব্দটি প্রতি মাসে প্রায় 60500 বার সার্চ করা হয় এবং গুগলের বিজ্ঞাপনে এই শব্দের প্রতি ক্লিকে ব্যয় (Cost Per Click) 17.92 ইউএস ডলার। এই বিষয় নিয়েও মানুষ প্রতিনিয়ত অনেক সার্চ করছে এবং এর বিজ্ঞাপন ভ্যালু ও অনেক বেশি।

সহজেই, আপনি কিওয়ার্ডের সার্চের পরিমান, কম্পিটিশন ও ভ্যালু জানতে পারবেন। এই জন্য Neilpatel এর জনপ্রিয় কিওয়ার্ড টুল Ubersuggest Addon টি আপনার ক্রোম বাউজারে ইনস্টল করে নিন।

High Search and Low Competition

সবশেষে আপনার খেয়াল রাখতে হবে, Low Competition. আপনার বাছাইকরা টপিক নিয়ে হয়তো ইতোমধ্যে অনেকেই ব্লগিং করছে। একই টপিক নিয়ে যদি খুব বেশি পরিমাণ ব্লগ/ওয়েবসাইট কম্পিটিশন করে, সেই টপিক নিয়ে আপনার কাজ করা মোটেও সহজ হবেনা। আপনি খুব সহজে প্রতিষ্ঠিত ব্লগ/ওয়েবসাইটগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবেন না।

তাই, আপনাকে এমন একটি বিষয় বাছাই করতে হবে যে বিষয়ের সার্চ বেশি কিন্তু প্রতিযোগিতা কম। অর্থাৎ High Search and Low Competition. কিভাবে High Search and Low Competition Keyword খুঁজে বের করবেন তা নিয়ে আমার আলাদা একটি পোষ্ট আছে। পড়তে পারেন- কিভাবে বিনামূল্যে কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন

 2. ডোমেইন নেইম বাছাই

ওয়েবসাইটের শেষে। dot (.) এর পর যে অংশটি থাকে তাই ডোমেইন। যেমন – .com, .net, org, info, online, এগুলো প্রত্যেকটাই এক একটি ডোমেইন। যেমন- আমার এই ওয়েবসাইটের abdulahwal.com এর ডোমেইন হলো .com।

আপনি কোনটি নিবেন? ওয়েবসাইটের ধরণ অনুসারে বিভিন্ন ধরণের ডোমেইন রয়েছে। সাধারণত, বানিজ্যিক (Commercial) সাইটের জন্য .com, নেটওয়ার্কিং (Networking) সাইটের জন্য .net, সংগঠন (Organization) সাইটের জন্য .org, নিউজ ও ইনফরমেশনাল সাইটের জন্য রয়েছে .news ও .info ইত্যাদি। এভাবে কার্যক্রম ও ধরণ অনুসারে বিভিন্ন ডোমেইন রয়েছে।

তবে এদের মধ্যে বেশি পছন্দনীয় ও টপ লেভেলের ডোমেইন হচ্ছে, .com, .net, .info ও .org।

আপনি ডোমেইন কেনার পূর্বে আপনার ব্লগের টপিক অনুসারে ব্লগ ওয়েবসাইটের একটি নাম ঠিক করতে হবে। নাম ঠিক করার পরই সেই নাম দিয়ে একটি ডোমেইন রেজিষ্টার করতে হবে।

ওয়েবসাইটের নাম বাছাই

যেকোন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের একটি নাম প্রয়োজন হয়। একটি নাম হচ্ছে একটি ব্র্যান্ড। মনে রাখবেন ব্লগিং বা কোন ব্যবসায়ে সফল হতে হলে অবশ্যই আপনার ব্র্যান্ড পরিচিতি ও অথরিটি তৈরি করতে হবে। আপনার এমন নাম বাছাই করতে হবে যা সহজেই মানুষের কাছে পরিচিতি করানো সম্ভব। তাই নাম বাছাইয়ে আপনাকে অনেকটা চিন্তা ও মেধা খাটাতে হবে।

ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা ব্লগ নিজ নাম দিয়েও খুলতে পারেন। আপনার ব্লগ ও আপনার ব্যক্তিগত নামে তৈরি করতে পারেন।

এছাড়া, আপনার ব্লগের টপিক অনুসারেও একটি নাম দিতে পারেন। কয়েকটি ওয়েবসাইটের নাম যেমন, My Blogger Tricks, Shout Me Loud, 10 Minute School,  BDclass ইত্যাদি।

কিভাবে আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের নাম বাছাই করবেন? প্রথমেই কিছু নামের আইডিয়া নিন বা আপনার বন্ধু বান্ধবদের সাথে আপনার ব্লগিংয়ের বিষয়টি শেয়ার করুন। তাদের বলুন সেই টপিক অনুসারে কোন নাম আপনার জন্য সাজেস্ট করতে। অনেকজনের মাথায় অনেক আইডিয়া আসতে পারে। সবগুলো নোট করুন।

আপনি, সহজেই ওয়েবসাইটের বিভিন্ন নামের আইডিয়া পেতে পারেন Nameboy থেকে

ব্লগ বা ওয়েবসাইটের নাম বাছাই করতে, অবশ্যই নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করবেন।

  • Short Domain Name – আপনার ওয়েবসাইটের নামটি যেন ছোট ও ইউনিক হয়। ছোট নামের সুবিধা হচ্ছে, এটি মানুষ সহজে মনে রাখতে পারবে ও টাইপ করে আপনার সাইট ভিজিট করতে সমস্যা হবেনা।
  • Keyword Based – আপনার ব্লগের প্রধান কিওয়ার্ডটি ওয়েবসাইটের নামের মধ্যে রাখার চেষ্টা করবেন। ধরুন আপনি বেবি ফুড বা ড্রেস নিয়ে ব্লগ তৈরি করছেন, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের নামে baby শব্দটি অবশ্যই ব্যবহার করবেন। আপনার ব্লগ যদি Cooking নিয়ে হয়, আপনি Cooking শব্দটি আপনার ডোমেইন নামের মধ্যে রাখবেন। এতে খুব সহজেই আপনার ব্লগ র‌্যাংক করতে পারবে।
  • Top Level Domain- ব্লগের নাম অনুসারে একটি টপ লেভেল ডোমেইন কিনবেন। সবচেয়ে ভাল হয়- .com বা .info ডোমেইন। কোন ফ্রি বা সাব ডোমেইন ব্যবহার করতে যাবেন না। এগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
  • Avoid Numbers- আপনার ব্লগের নামের মধ্যে সংখ্যা যেমন, 24/ 360 এমন সংখ্যা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। সংখ্যা আপনার ডোমেইন নেইমকে কিছুটা কঠিন করে দেয়।

নাম বাছাই হলে, এবার একটি ডোমেইন রেজিষ্টার করতে হবে। যদি আপনার ইউএসডি বা ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট করার মত ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড থাকে, যে কোন পপুলার রেজিষ্ট্রার থেকে আপনার ডোমেইন কিনতে পারেন।

পপুলার ইন্টারন্যাশনাল ডোমেইন রেজিষ্ট্রারগুলো হচ্ছে:

যদি না থাকে, আপনার লোকাল অনেক ভাল ডোমেইন রেজিষ্ট্রার আছে, তাদের থেকেও ডোমেইনটি কিনতে পারেন। আপনি যেখান থেকেই ডোমেইন কিনেন, সুযোগ সুবিধা প্রায় সমান। বরং আপনার লোকাল রেজিষ্ট্রার থেকে আপনি আরো বেশি সুবিধা পাবেন।

আপনি বাংলাদেশ থেকে হলে, খুবই কম মূল্যে ডোমেইন কিনতে পারেন Sparsha Digital থেকে। ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত কোন সাহায্য প্রয়োজন হলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন- Contact Me

3. ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম বাছাই

আপনার ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষনের জন্য একটি সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে এটাই হচ্ছে ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম। সবচেয়ে জনপ্রিয় ২টি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) ও ব্লগার (Blogger)।

এর মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) ব্যবহারের জন্য আপনাকে ব্যয় করতে হবে কিন্তু (Blogger) গুগলের একটি সম্পূর্ণ ফ্রি সার্ভিস। এই ২টি নিয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করছি।

ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress)

সারা পৃথিবীতে জব বড় বড় ব্লগাররা, ব্লগিং ওয়েবসাইটের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে থাকে। অন্য যে কোন ব্লগিং প্ল্যাটফর্মের চেয়ে ওয়ার্ডপ্রেসের অনেকগুলো বাড়তি সুবিধা থাকার কারণে সবাই ওয়ার্ডপ্রেস পছন্দ করে।

যদিও ওয়ার্ডপ্রেস সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ ফ্রি, এটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে ওয়েব সার্ভার বা ওয়েব হোস্টিং ক্রয় করতে হবে।  এজন্য আপনাকে সামান্য ব্যয় করতে হবে। ওয়েব সার্ভারে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করেই আপনি আপনার ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেসে আপনি যে সুবিধাগুলো পাবেনঃ

  • আপনার নিজস্ব সার্ভারে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করে ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় বলে, সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • আপনার পছন্দমত ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পরিবর্তন, কাস্টমাইজেশন করার জন্য আপনার সম্পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
  • ওয়ার্ডপ্রেস অনেক জনপ্রিয় হওয়ায়, ডেভেলপাররা বিভিন্ন থিম ও প্লাগিন ডেভেলপমেন্ট করার কাজে লেগে থাকেন। যার ফলে নতুন নতুন ফিচার ও সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।
  • ওয়ার্ডপ্রেসে বিভিন্ন ফিচার, সুযোগ সুবিধা যোগ করার জন্য রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি ফ্রি প্লাগিন।
  • অসংখ্য ফ্রি ও পেইড প্রফেশনাল থিম পাওয়া যায়। ফলে আপনি নিজেই কোন ডেভলপার ছাড়া এসব থিম ইন্সটল করে একটি প্রফেশনাল মানের ব্লগ তৈরি করে ফেলতে পারেন।
  • কাস্টম ইউআরএল (URL) স্টাইল- ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে URL আপনার ইচ্ছামত সেট করতে পারবেন। যেটা ব্লগারে করা যায় না।

ব্লগার (Blogger)

ব্লগার হচ্ছে গুগলের সম্পূর্ণ ফ্রি ব্লগিং সেবা। এখানে আপনাকে কোন প্রকার খরচ করতে হবেনা। আপনার কোন প্রকার ওয়েবসার্ভার নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা। শুধুমাত্র একটি ডোমেইন কিনেই আপনি আপনার ব্লগ চালু করতে পারেন।

যারা কম্পিউটার বা ওয়েব সম্পর্কে খুব বেশি জ্ঞান নেই এবং ব্লগিংয়ে আপনার আরো দক্ষতা বাড়ানোর জন্য চান, তাদের জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো ফ্রি ব্লগার। কারণ আপনি ব্লগার এ কোনরকম টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই একটি ব্লগ বানাতে পারবেন।

যেহেতু আপনি একদম নতুন এবং আপনার এই বিষয়ে টেকনিক্যাল জ্ঞান নেই, আপনার এই মুহুর্তে হোস্টিং, থিম ও ডেভেলপারের জন্য টাকা ইনভেস্ট করা উচিত হবেনা। আপনার জন্য ব্লগার (Blogger) ই বেস্ট।

পরে আপনি চাইলে আপনার Blogger ব্লগ কে WordPress এ মাইগ্রেট করে নিয়ে আসতে পারবেন।

ব্লগারের কিছু সুবিধাঃ

  • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার
  • গুগলের ফ্রি সেবা তাই শুধুমাত্র আপনার জিমেইল একাউন্ট দিয়েই এই সেবা নিতে পারবেন
  • টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
  • বিস্বস্ত, নিরাপদ ও হ্যাকিং হবার কোন সম্ভাবনাই নেই
  • সম্পূর্ণ ক্লাউড সার্ভার হওয়ায়, আপনার ওয়েবসাইট অনেক দ্রুতগতির হবে।

আপনি যদি ব্লগিং নিয়ে আয় করার জন্য দৃঢ়সংকল্প হন এবং সামান্য কিছু টাকাও ব্যয় করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকে, আমি বলব আপনি ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) দিয়ে শুরু করুন। এর ফলে আপনার অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে এবং আপনি অনেকটা তাড়াতাড়ি আপনার সফলতা দেখতে পাবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগার যা দিয়েই আপনি সাইট তৈরি করেন না কেন, গুগল সার্চে র‌্যাংকিংয়ে এটা খুব একটা প্রভাব ফেলবেনা। তবে ওয়ার্ডপ্রেসে এসইও করা সহজ।

WordPress দিয়ে ব্লগ তৈরি করা নিয়ে কোন অসুবিধা বা প্রশ্ন করতে পারেন আমাকে। আমার ফেইসবুক পেইজে আমাকে মেসেজ দিন- fb.com/imabdulahwal

4. ব্লগ সাইট তৈরি

আপনি ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress) বা ব্লগার (Blogger) যে কোন একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়ে আপনার ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারেন। কিভাবে আপনার ব্লগ সাইট নিজেই তৈরি করবেন তা বলছি।

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো

ওয়ার্ডপ্রেস – WordPress

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে আপনার ব্লগ তৈরি করেন, ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টলের জন্য আপনাকে ওয়েব সার্ভার বা হোস্টিং কিনতে হবে। সার্ভার বলতে সার্বক্ষণিক  অনলাইনে থাকা একটি কম্পিউটার ও স্টোরেজ যেখানে আপনার ওয়েবসাইটটি রাখা হবে। পৃথিবীর যে কোন দেশ থেকে ভিজিটররা ইন্টানেটের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগ দেখতে পারবে।

যত ভাল মানের হোস্টি আপনি নিবেন, তত ভাল পারফর্মেন্স আপনার ওয়েবসাইট দিতে পারবে। তাই মোটামুটি একটি ভাল হোস্টিং নেয়া জরুরী। বিভিন্ন ধরণের হোস্টিং

পড়ুন- কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে নিজেই একটি প্রফেশনাল ব্লগ তৈরি করবেন

ব্লগার – Blogger

ব্লগার এ ব্লগ তৈরি করতে কোন ওয়েব সার্ভার প্রয়োজন হয় না। আপনার ওয়েবসাইট গুগলের নিজস্ব সার্ভারে থাকবে। এখানে আপনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।

ব্লগারের সবচেয়ে ভাল সুবিধা হচ্ছে, এটি বিনামূল্যে এবং হোস্টিংয়ের জন্য কোন পেমেন্ট করতে হয়না। একটি ব্লগ তৈরি করতে শুধুমাত্র কয়েক মিনিট প্রয়োজন।

আপনার ডোমেইনটি ক্রয় করেই কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনি নিজেই আপনার ব্লগ তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

পড়ুন- কিভাবে ব্লগার এ একটি ফ্রি প্রফেশনাল ব্লগ তৈরি করবেন

5. ব্লগ পোস্ট বা আর্টিকেল লিখুন

অনেক কষ্ট আর সময় ব্যয় করে ওয়েবসাইট করলেন, এখন আসল কাজ শুরু। ব্লগে আপনার টপিক অনুযায়ী ভাল ভাল কনটেন্ট দিতে হবে। ভাল ও উপকারী কনটেন্ট আপনার ব্লগে না থাকলে, আপনার পূর্বের সব পরিশ্রম মাটি।

একটি ব্লগের কনটেন্ট বা আর্টিকেলই হচ্ছে প্রধান বিষয়। কনটেন্ট ভাল তো আপনার সফলতা খুব বেশি দুরে নয়।

যদি ব্লগের কনটেন্ট ভাল না হয়, কোন ভিজিটর একবার আসলে সে ২য় বার আর আসবেনা। আপনাকে অবশ্যই আন্তরিকভাবে ব্লগ লিখতে হবে এবং পরিপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে হবে।

আর্টিকেল বা ব্লগ পোস্ট লিখতে সবার আগে মাথায় রাখতে হবে, আপনার পাঠক কারা। তাদের প্রয়োজন অনুসারে আপনাকে লিখতে হবে। খুব সহজে সার্চে র‌্যাংক পাওয়ার জন্য ব্লগ লেখার সময় ৮০% কাজ করতে হয়।

পড়ুন- কিভাবে একটি ভাল আর্টিকেল লিখবেন

6. ব্লগের এসইও (SEO) করুন

অনেক ভাল কনটেন্ট লিখলেন কিন্তু কোন ভিজিটর/ পাঠক নাই, কেমন হবে? কোথা থেকে আসবে আপনার ভিজিটর?

আপনি যখন কোন কিছু খোজেন কি করেন? গুগলে সার্চ করেন। আর সার্চ পৃষ্ঠায় দেখানো, ওয়েবসাইটগুলো আপনি ভিজিট করে আপনার তথ্য খুঁজে নেন।

এভাবে, আপনার ব্লগকে  গুগলের বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্টের একদম প্রথম পাতায় আনতে হবে। এজন্য আপনাকে যা যা করতে হবে এ সকল কাজের সমষ্টি হচ্ছে Search Enging Optimization (SEO)। সঠিক SEO Techniques ব্যবহার করে Google, Bing সহ অন্যান্য Search Engines থেকে প্রচুর Organic Traffic/ Visitors পাবেন।

ব্লগিংয়ে খুব ভাল পরিমান আয় করতে হলে আপনাকে অবশ্যই মোটামুটি এসইও (SEO) জানতেই হবে। কোন চিন্তা নয় এসবের জন্য আমি তো আছি। আপাতত আপনাকে মৌলিক ধারণা দেই।

SEO প্রধানত দু ধরণের-

  • On Page SEO-  ব্লগের অভ্যন্তরে, ওয়েব সাইটের গঠন ও আপনার আর্টিকেলের মধ্যে যে এসইও কাজগুলো করেন, যেমন- Title, Description, Heading, Keyword, Image Optimization ইত্যাদি
  • Off Page SEO- ব্লগের বাইরে, যে এসইও কাজগুলো রয়েছে যেমন- Backlink Building, Search Console ও Google Analytics সেটআপ, ‍Social Share ইত্যাদি।

পড়ুন- কিভাবে আপনার নতুন ওয়েবসাইটের এসইও করবেন

7. গুগল সার্চ কনসোল ও গুগল এ্যানালিটিক্স সেটআপ

আপনার ব্লগের আর্টিকেলগুলো Google Search এ দেখানোর জন্য আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটকে Google Search Console এ Submit করতে হবে। এছাড়া আপনার ব্লগের ভিজিটরদের সম্পর্কে জানতে, Keyword Analysis, Content Performance ইত্যাদি দেখার জন্য Google Analytics সেটআপ করতে হবে।

আমার মনে হয়, ব্লগিং শুরু করার জন্য যা যা জানা দরকার সব তথ্য আমি আপনাকে দিতে পেরেছি। এই বিষয়ে আপনার যদি আরো কোন প্রশ্ন থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। খুব দ্রুত উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবে।

আপনি নতুন হিসেবে ভাবতে পারেন, এত কিছু করা লাগে ব্লগিংয়ে। এটাতো খুব কঠিন। আসলে, একমাত্র ব্লগিংই অনলাইনে ভাল ও নির্ভরযোগ্য আয়ের জন্য সবচাইতে সহজ কাজ যদি আপনার জ্ঞান ও ইচ্ছা থাকে।

আপনি শুধুমাত্র আমার এই ব্লগ থেকেই, ব্লগিং ও এসইও বিষয়ক সকল টিউটোরিয়াল বিনামূল্যে পাবেন। একইসাথে হেল্প।

কেন আমি আপনাকে বিনামূল্যে এসব শেয়ার করছি? আমি চাই বাংলাদেশে ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রটি আরো বড় হোক। তখনই, আমার নিজের ও লাভ আপনাদের ও লাভ।

ধন্যবাদ !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।